রবিবার, ৯ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

(এই) সেই (মহা) গ্রন্থ (আল কোরআন), তাতে (কোনো) সন্দেহ নেই, যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে (এই কিতাব কেবল) তাদের জন্যেই পথ প্রদর্শক, যারা গায়েবের উপর ঈমান আনে, যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, তাদের আমি যা কিছু দান করেছি তারা তা থেকে (আমার নির্দেশিত পথে) ব্যয় করে, যারা তোমার ওপর যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনে- (ঈমান আনে) তোমার আগে (অন্য নবীদের ওপর) যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার ওপর, (সর্বোপরি) তারা পরকালের ওপরও দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। (সত্যিকার অর্থে) এ লোকগুলোই তাদের মালিকের (দেখানো) সঠিক পথের ওপর রয়েছে এবং এরাই হচ্ছে সফলকাম, যারা (এ বিষয়গুলো) অস্বীকার করে, তাদের তুমি (পরকালের কথা বলে) সাবধান করো আর না করো, (কার্যত) উভয়টাই (তাদের জন্যে) সমান (কথা), এরা কখনো ঈমান আনবে না।

- সূরা আল বাক্বারা (আয়াত ২-৬)



তুমি তো কেবল এমন লোককেই সর্তক করতে পারো যে (আমার) উপদেশ মেনে চলে এবং (সে অনুযায়ী) দয়াময় আল্লাহ তায়ালাকে না দেখে ভয় করে, (হ্যাঁ যে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে) তুমি তাকে ক্ষমা ও মহা প্রতিদানের সুসংবাদ দান করো।

- সূরা ইয়াসিন (আয়াত ১১)



অবশ্যই এ কোরআন এমন এক পথের দিকে নির্দেশনা দেয় যা অতি (সরল ও) মযবুত এবং যেসব ঈমানদার মানুষ নেক আমল করে, এ (কেতাব) তাদের (এ) সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) এক মহাপুরস্কার রয়েছে।

- সূরা বনী ঈসরাঈল (আয়াত ৯)



যে ব্যক্তি হেদায়েতের পথে চলবে, সে তো চলবে একান্তভাবে নিজের (ভালোর) জন্যে, যে ব্যক্তি গোমরাহ হবে তার গোমরাহীর দায়িত্ব অবশ্যই তার উপর; (আসল কথা হচ্ছে, সেদিন) কেউই অন্য কারো (গুনাহের) ভার বইবে না; আর আমি কখনোই (কোন জাতিকে) আযাব দেই না, যতোক্ষণ না আমি (সেখানে আযাব থেকে সতর্ককারী) কোনো রসূল না পাঠাই।

- সূরা বনী ইসরাঈল (আয়াত ১৫)



কোনো ব্যক্তি দ্রুত (দুনিয়ার সুখ সম্ভোগ) পেতে চাইলে আমি তাকে এখানে তার জন্যে যতোটুকু দিতে চাই তা সত্বর দিয়ে দেই, (কিন্তু) পরিশেষে তার জন্যে জাহান্নাম নির্ধারণ করে রাখি, যেখানে সে প্রবেশ করবে একান্ত নিন্দিত, অপমানিত ও বিতারিত অবস্থায়। (অপরদিকে) যারা আখেরাতে (ও তার সাফল্য) কামনা করে এবং তা পাওয়ার জন্যে যে পরিমাণ চেষ্টা করে, (সর্বোপরি) যারা হয় (সত্যিকার) মোমেন, (মূলত) তারাই হচ্ছে এমন লোক যাদের চেষ্টা সাধনা (আল্লাহর দরবারে) স্বীকৃত হয়।

- সূরা বনী ইসরাঈল (আয়াত ১৮-১৯)



তোমার মালিক আদেশ করেছেন, তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করো না এবং তোমরা (তোমাদের) পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো; তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তাহলে তাদের (সাথে) বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং কখনো ধমক দিয়ো না, তাদের সাথে সম্মানজনক ভদ্রনোচিত কথা বলো। অনুকম্পায় তুমি ওদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো হে (আমার) মালিক, ওদের প্রতি (ঠিক সেভাবেই) তুমি দয়া করো, যেমনি করে শৈশবে ওরা আমাকে লালন পালন করেছিলো। (আসলে) তোমাদের মালিক তোমাদের অন্তরসমূহের ভেতর যা আছে তা ভালো করেই জানেন; তোমরা (সত্যই) যদি ভালো মানুষ হয়ে যাও তাহলে (আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করে দেবেন, কেননা), যারা তাওবা করে তিনি তাদের (গুনাহ) মাফ করে দেন।

- সূরা বনী ইসরাঈল (আয়াত ২৩-২৫)
 
 
 
 

শুক্রবার, ৭ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

(হে নবী,) আল্লাহর শপথ, তোমার আগেও আমি জাতিসমূহের কাছে নবী পাঠিয়েছিলাম, অতপর শয়তান তাদের (খারাপ) কাজসমূহ তাদের জন্যে শোভনীয় করে দিয়েছিলো, সে (শয়তান) আজো বন্ধু হিসেবেই (হাযির) আছে, তাদের (সবার) জন্যেই রয়েছে কঠোর আযাব। (হে নবী,) আমি তোমরা ওপর (এ) কেতাব এ জন্যেই নাযিল করেছি যেন তুমি তাদের সামনে সে বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট করে পেশ করতে পারো, (যে বিষয়ের মধ্যে) তারা মতবিরোধ করেছে, বস্তুত এ (কেতাব) হচ্ছে ঈমানদার লোকদের জন্যে হেদায়াত ও (আল্লাহ তায়ালার) অনুগ্রহস্বরূপ।

- সূরা আন নাহল (৬৩-৬৪)
 
 
অবশ্যই তোমাদের জন্যে গৃহপালিত জন্তু জানোয়ারের মাঝে (প্রচুর) শিক্ষার বিষয় রয়েছে, তাদের উদরিস্থিত (দুর্গন্ধময়) গোবর ও (নাপাক) রক্তের মধ্য থেকে নিসৃত (পানীয়) খাঁটি দুধ আমিই তোমাদের পান করাই, পানকারীদের জন্যে (এটি) বিশুদ্ধ ও সুস্বাদু। খেজুর এবং আঙ্গুর ফলের মধ্যেও (শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে), তা থেকে তোমরা নেশাকর (হারাম) জিনিষ যেমন বের করে আনছো, তেমনি (তা থেকে হালাল এবং) উত্তম রেযেকও তোমরা লাভ করছো, নিসন্দেহে এতে (আল্লাহর কুদরতের) অনেক নিদর্শন আছে তাদের জন্যে, যারা জ্ঞান সম্পন্ন সম্প্রদায়ের লোক। তোমার মালিক মৌমাছিকে নির্দেশ দিয়েছেন, পাহাড়ের (গায়ে) গাছে (-র ডালে) এবং (অন্য কিছুর ওপর) যা তোমরা বানাও তার ওপর নিজেদের থাকার ঘর নির্মান করো, তারপর প্রত্যেক ফল থেকে (রস আহরণ করে তা) খেতে থাকো, অতপর তোমার মালিকের (নির্ধারিত) পথ ধরে পূর্ণ আনুগত্যের সাথে (সেদিকে) এগিয়ে চলো; (এভাবে) তার পেট থেকে রং বেরঙ্গের পানীয় (দ্রব্য) বের হয়, যার মধ্যে মানুষদের নিরাময়ের ব্যবস্থা রয়েছে; (অবশ্য) এতেও নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্যে, যারা (আল্লাহর এ সৃষ্টি বৈচিত্র নিয়ে) চিন্তা করে।

- সূরা আন নাহল (৬৬-৬৯)
 
 
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মায়ের পেট থেকে (এমন এক অবস্থায়) বের করে এনেছেন যে তোমরা (তার) কিছুই জানতে না, অতপর তিনি তোমাদের কান, চোখ ও দিল দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা শোকর আদায় করতে পারো।

- সূরা আন নাহল (আয়াত ৭৮)
 

বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

তিনি (ক্ষুদ্র একটি) শুক্রকণা থেকে (যে) মানুষ তৈরী করেছেন- (আশ্চর্যের ব্যাপার!) সে (এখানে এসে স্বয়ং তার স্রষ্টার সাথেই) প্রকাশ্য বিতর্ককারী বনে গেল!

- সূরা আন নাহল (আয়াত ৪)


(হে মানুষ,) তোমাদের মাবুদ তো একজন (তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই), অতপর যারা পরকালের উপর ঈমান আনে না তাদের অন্তরসমূহ (এমনিই সত্য) অস্বীকারকারী হয়ে পড়ে এবং এরা নিজেরাও হয় (দারুণ) অহংকারী। নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা জানেন, এরা যা কিছু গোপন করে এবং যা কিছু প্রকাশ করে, তিনি কখনো অহংকারীদের পছন্দ করেন না।

- সূরা আন নাহল (আয়াত ২২-২৩)


চিরস্থায়ী এক জান্নাত- যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, (উপরন্তু) সেখানে যা কিছুই কামনা করবে তাই তাদের জন্যে (সরবরাহের ব্যবস্থা) থাকবে; এভাবেই আল্লাহ তায়ালা পরহেযগার ব্যক্তিদের (তাদের নেক কাজের) প্রতিফল দান করেন, এরা হচ্ছে তারা, ফেরেশতারা যাদের পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু ঘটাবে, তারা (তাদের উদ্দেশে) বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, (দুনিয়ায়) তোমরা যে আমল করতে তারই কারণে আজ তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।

- সূরা আন নাহল (আয়াত ৩১-৩২)

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

অবশ্যই আমি তোমাকে সাত আয়াত (বিশিষ্ট একটি সূরা) দিয়েছি, যা (নামাযের ভেতর ও বাইরে) বার বার পঠিত হয়- আরো দিয়েছি (জীবন বিধান হিসেবে) মহান (গ্রন্থ) কোরআন।

- সূরা আল হেজর (আয়াত ৮৭)


(হে নবী,) যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমার কাছে নিশ্চিত (মৃত্যুজনিত) ঘটনা না আসবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার মালিকের এবাদত করতে থাকো।

- সূরা আল হেজর (আয়াত ৯৯)

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

সে বললো, হে আমার মালিক, তুমি যেভাবে (আজ) আমাকে পথভ্রষ্ট করে দিলে (আমিও তোমার শপথ করে বলছি), আমি মানুষদের জন্যে পৃথিবীতে তাদের (গুনাহের কাজসমূহ) শোভন করে তুলবো এবং তাদের সবাইকে আমি পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো, তবে তাদের মধ্যে যারা তোমার খাঁটি বান্দা তাদের কথা আলাদা।

- সূরা আল হেজর (আয়াত ৩৯-৪০)

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

হে নবী,) তুমি কখনো মনে করো না, এ যালেমরা যা কিছু করে যাচ্ছে তা থেকে আল্লাহ তায়ালা গাফেল রয়েছেন; (আসলে) তিনি তাদের সেদিন আসা পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রাখছেন যেদিন (তাদের) চক্ষু স্থির হয়ে যাবে।

- সূরা ইবরাহীম (আয়াত ৪২)




(সোজা পথে) এরা (বিভিন্ন) চক্রান্তের পন্থা অবলম্বন করেছে, আল্লাহর কাছে তাদের সেসব চক্রান্ত লিপিবদ্ধ আছে; যদিও তাদের সে চক্রান্ত (দেখে মনে হচ্ছিলো তা বুঝি) পাহাড় টলিয়ে দিতে পারবে!

- সূরা ইবরাহীম (আয়াত ৪৬)
 
 
(এ কোরআন) হচ্ছে মানুষের জন্যে এক (মহা) পয়গাম, যাতে করে এ (গ্রন্থ) দিয়ে (পরকালীন আযাবের ব্যাপারে) তাদের সতর্ক করে দেয়া যায়, তারা যেন (এর মাধ্যমে) এও জানতে পারে, তিনিই একমাত্র মাবুদ, (সর্বোপরি) বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে করে (এর দ্বারা) উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।

- সূরা ইবরাহীম (আয়াত ৫২)

রবিবার, ২ জুন, ২০১৩

কুরআনের আয়াত

যখন বিচার ফয়সালা হয়ে যাবে তখন শয়তান জাহান্নামীদের বলবে, আল্লাহ তায়ালা তোমদের সাথে (যে) ওয়াদা করেছেন তা (ছিলো) সত্য ওয়াদা, আমিও তোমাদের সাথে (একটি) ওয়াদা করেছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদের সাথে ওয়াদার বরখেলাপ করেছি; (আসলে) তোমাদের ওপর আমার তো কোনো আধিপত্য ছিলো না, আমি তো শুধু এটুকুই করেছি, তোমাদের (আমার দিকে) ডেকেছি, অতপর আমার ডাকে তোমরা সাড়া দিয়েছো, তাই (আজ) আমার প্রতি তোমরা (কোন রকম) দোষারোপ করোনা, বরং তোমরা নিজেদের উপরই দোষারোপ কর; (আজ) আমি (যেমন) তোমাদের উদ্ধারে (কোনো রকম) সাহায্য করতে পারবো না, (তেমনি) তোমরাও আমার উদ্ধারে কোনো সাহায্য করতে পারবে না; তোমরা যে (আগে) আমার আল্লাহর শরীক বানিয়েছো, আমি তাও আজ অস্বীকার করছি (এমন সময় আল্লাহর ঘোষণা আসবে); অবশ্যই যালেমদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব।

- সূরা ইবরাহীম (আয়াত ২২)



(হে নবী,) আমার যে বান্দা ঈমান এনেছে তুমি তাদের বলো, তারা যেন নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যে রেযেক দিয়েছি তা থেকে যেন তারা (আমারই পথে) ব্যয় করে, গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে, (কেয়ামতের) সে দিনটি আসার আগে, যেদিন (মুক্তির জন্যে) কোনো রকম (সম্পদের) বেচাকেনা চলবে না- না (এ জন্যে কারো) কোনো রকমের বন্ধুত্ব কাজে লাগবে।

- সূরা ইবরাহীম (আয়াত ৩১)



তোমরা তাঁর কাছ থেকে (প্রয়োজনের) যতো কিছুই চেয়েছো তার সবই তিনি (তোমাদের সামনে) এনে হাযির করেছেন এবং তোমরা যদি (সত্য সত্যই) তাঁর সব নেয়ামত গণনা করতে চাও, তাহলে কখনোই তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না; মানুষ (আসলেই) অতি মাত্রায় সীমালংঘনকারী ও (নেয়ামতের প্রতি) অকৃতজ্ঞ বটে।

- সূরা ইবরাহীম (আয়াত ৩৪)