বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

বেহেশতী গওহর

পুরুষ ও নারীর নামায পড়ার নিয়মে যেসব পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিম্নে উদ্ধৃত করা হলঃ

(১) তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় পুরুষের উচিত চাদর ইত্যাদি থেকে হাত বের করে কান পর্জন্ত তোলা, যদি শীত ইত্যাদির কারণে হাত ভেতরে রাখার প্রয়োজন না হয়। কিন্তু নারীরা সর্বাবস্থায় হাত বের না করেই কাঁধ পর্জন্ত উঠাবে।

(২) তাকবীরে তাহরীমার পরে পুরুষরা নাভীর নীচে এবং নারীরা বুকের উপর হাত বাঁধবে।

(৩) পুরুষেরা কনিষ্ঠ অঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা বৃত্ত তৈরী করে বাম কব্জি ধারণ করবে এবং ডান হাতের তিন অঙ্গুলি বাম কব্জির উপর বিছিয়ে রাখবে। কিন্তু নারীরা ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠে রেখে দেবে। বৃত্ত তৈরী করবে না এবং কব্জি ধারণ করবে না।

(৪) পুরুষদের উচিত রুকুতে এমনভাবে ঝুঁকে পড়া যে, মাথা নিতম্ব ও পিঠ সমতল হয়ে যায়; কিন্তু মহিলাদের এত বেশি ঝুঁকে পড়া উচিত নয় । তারা কেবল এতটুকু ঝুঁকবে যাতে তাদের হাত হাঁটু পর্জন্ত পৌছে যায়।

(৫) পুরুষরা রুকুতে অঙ্গুলিসমূহ ফাঁক করে হাঁটুর উপর রাখবে এবং মহিলারা ফাঁক না করে বরং পরস্পর মিলিয়ে রাখবে।

(৬) রুকুর অবস্থায় পুরুষেরা কনুই পার্শ্ব থেকে আলাদা রাখবে এবং মহিলারা মিলিয়ে রাখবে।

(৭) পুরুষরা সেজদার সময় পেটকে ঊড়ু থেকে এবং বাহুকে বগল থেকে আলাদা রাখবে এবং মহিলারা এগুলো মিলিয়ে রাখবে।

(৮) পুরুষরা সেজদায় কনুইকে মাটি থেকে উপরে উঠিয়ে রাখবে এবং মহিলারা মাটিতে বিছিয়ে রাখবে।

(৯) পুরুষরা সেজদায় উভয় পা আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে খাড়া রাখবে এবং মহিলারা তা করবে না।

(১০) পুরুষরা বসার অবস্থায় বাম পায়ের উপর বসবে এবং ডান পা আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে খাড়া রাখবে। কিন্তু মহিলারা বাম নিতম্বের উপর ভর দিয়ে বসবে এবং উভয় পা ডান দিকে বের করে দেবে, যাতে ডান ঊরু বাম ঊরুর উপরে এসে যায় এবং ডান পায়ের গোছা বাম পায়ের গোছার উপরে থাকে।

(১১) মহিলাদের কোন সময় উচ্চসরে কেরাআত পড়ার অধিকার নেই। তারা সর্বদা নিরবে কেরাআত পাঠ করবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন